কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নাগরিক পরিষেবা, শংসাপত্র, অ্যাপ, নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত পরিষেবা, এফআইআর এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণার পরই এক স্বঘোষিত সাংস্কৃতিক সংগঠন নবান্নে নতুন একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তাদের দাবি, “যখন সর্বত্র বাংলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে, তখন ‘বাংলা’কেও রাজ্যের মুখ্য পানীয় হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হোক।”
সংগঠনের মুখপাত্রের দাবি, “এতদিন শুধু বাংলা ভাষার চর্চা হয়েছে। এবার বাংলারও চর্চা হওয়া উচিত। সংস্কৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
এক দপ্তরে নাকি আপ্যায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মী সরকারি নির্দেশিকা পুরোটা না পড়েই অতিথিদের জন্য চা-কফির বদলে শুধু ‘বাংলা’ রাখার ব্যবস্থা করেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিথিদের হাতে একদিকে চায়ের কাপ, অন্যদিকে বাংলা অভিধান ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দাবি সামনে আসতেই শহরের কয়েকটি দেশি মদের দোকানের বাইরে হঠাৎ করেই ভিড় বেড়ে যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, সরকার হয়তো নতুন কোনও নির্দেশ জারি করেছে। পরে দোকানের মালিকদের বারবার ঘোষণা করতে হয়, “এখানে শুধু পানীয় বিক্রি হয়, ভাষা শেখানো হয় না।” তবুও কয়েকজন ক্রেতা নাকি জানতে চান, “বাংলা বাধ্যতামূলক হলে মাসিক রেশনেও কি এর ব্যবস্থা থাকবে?”
অন্যদিকে, কয়েকটি বাংলা সাহিত্য সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে। এক সংগঠনের সম্পাদক জানান, “প্রথমে ভেবেছিলাম বাংলা ভাষা নিয়ে সেমিনার হবে। পরে দেখি সবাই গ্লাস নিয়ে হাজির। শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।”
এদিকে স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চা, কফি ও সফট ড্রিঙ্কসের পাশাপাশি “বাংলা”কেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সম্মানজনক স্থান দেওয়া হোক। সংগঠনের মতে, “যে শব্দ নিয়ে এত বিভ্রান্তি, তাকে সম্মান না জানিয়ে উপায় নেই।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নবান্নের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশাসনের এক করিডরে শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে ‘বাংলা (ভাষা)’ এবং ‘বাংলা (পানীয়)’ আলাদা করে উল্লেখ করার প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
Disclaimer: This is a satire article created for humour and social commentary. It is not a real news report.