দক্ষিণ কলকাতার একাধিক থানায় মুখ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে প্রশাসনিক সূত্র নয়, “খুবই অবিশ্বস্ত কিন্তু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী” সূত্রের দাবি— আইনশৃঙ্খলা নয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে থানাগুলিকে “রাজনৈতিক অতিথিশালা” হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী কি না, সেটাই খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের দাবি, একটি থানায় ঢুকেই তিনি নাকি লক-আপের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন,
“খাটগুলো এখনও শক্ত আছে তো? ভোটের মরশুমে অতিথির সংখ্যা বাড়লে যেন অসুবিধা না হয়।”
এরপর থানার বিভিন্ন ঘর ঘুরে দেখে কোথাও রং চটেছে কি না, কোথাও পাখা ঠিকমতো চলছে কি না, এমনকি বাথরুমে জল আসছে কি না তাও খোঁজ নেন বলে খবর। এক পুলিশকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা ভেবেছিলাম অপরাধ দমন নিয়ে আলোচনা হবে। পরে বুঝলাম, বিষয়টা নাকি অতিথি আপ্যায়ন।”
খবর রটে যেতেই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে নাকি শুরু হয়েছে নতুন উদ্বেগ। কেউ নিজের আইনজীবীকে ফোন করে জানতে চাইছেন, “আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা আছে?” আবার কেউ খোঁজ নিচ্ছেন, “জানালার ধারের রুম পাওয়া যাবে তো?”
এদিকে নবান্ন ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, কয়েকটি থানায় নাকি নতুন পরিষেবাও চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। তার মধ্যে রয়েছে “ভিআইপি লক-আপ”, “সেলফি কর্নার”, “প্রেস কনফারেন্স জোন” এবং “জামিন কাউন্টার”।
বিরোধী শিবির অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, এটি কোনও পরিদর্শন নয়, বরং “প্রি-ইলেকশন হসপিটালিটি অডিট”। যদিও শাসকদলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজেই গিয়েছিলেন, আর বাকি সবটাই বিরোধীদের কল্পনা।
এদিকে শহরের কয়েকটি থানায় নাকি ইতিমধ্যেই একটি নতুন বোর্ড লাগানোর প্রস্তাব এসেছে—
“রাজনৈতিক অতিথিশালা — চেক-ইন আদালতের নির্দেশে, চেক-আউট জামিন সাপেক্ষে।”
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক। বাস্তব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার সঙ্গে এর কোনও বাস্তব সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র হাস্যরস ও বিদ্রূপের উদ্দেশ্যে রচিত।