কলকাতা: এন্টালি থানাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এল এক অভিনব আশ্বাস। থানার বাইরে বিক্ষোভ, আর ভিতরে পুলিশ—এই পরিস্থিতিতে নেতাদের তরফে পুলিশকে নাকি বলা হয়েছে, “ভয় নেই, আমরা বাইরে আছি।”
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের অন্দরমহলে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এতদিন পুলিশ সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়ে এসেছে, “ভয় পাবেন না, আমরা আছি।” এবার পরিস্থিতি বদলে গিয়ে পুলিশকেই সেই আশ্বাস শুনতে হচ্ছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, থানার দরজায় তালা পড়ার পর কয়েকজন পুলিশকর্মী প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। একজন পুলিশকর্মী নাকি সহকর্মীদের বলেন,
“আমরা তো সাধারণত থানার ভিতরে থেকে বাইরে নিরাপত্তা দিই। আজ দেখছি বাইরে থেকে আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে!”
এরপর পরিস্থিতি সামলাতে থানার ভিতর থেকেই নাকি নতুন এক ভাবনা উঠে আসে। পুলিশকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়—এতদিন তাঁরা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতেন, এবার তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বও যদি বাইরে থাকা নেতাদের হাতে চলে যায়, তাহলে পুলিশের কাজটা ঠিক কী?
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর কলকাতার সমস্ত থানায় নতুন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে—“থানায় তালা পড়লে কীভাবে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখবেন।”
প্রশিক্ষণে সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয় থাকবে:
- থানার দরজায় তালা পড়লে শান্ত থাকার কৌশল
- বাইরে থেকে আসা আশ্বাসকে সরকারি নির্দেশ হিসেবে গ্রহণের পদ্ধতি
- “আমরা বাইরে আছি” শুনলে কীভাবে ধন্যবাদ জানাতে হবে
- থানার ভিতর থেকে বাইরে বেরোনোর বিকল্প রাস্তা খোঁজা
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও উন্নত হলে হয়তো থানার দরজায় তালার প্রয়োজনও থাকবে না। পুলিশ নিজেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং নেতারাই থানার ভিতরে বসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
তবে পুলিশ মহলের তরফে এখনও পর্যন্ত একটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়নি—থানায় তালা পড়লে সেটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, নাকি নতুন ধরনের ‘ল অ্যান্ড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট’।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশকে ফের আশ্বস্ত করা হয়েছে—
“ভয় নেই। আপনারা ভিতরেই থাকুন। আমরা বাইরে আছি।”
আর সেই আশ্বাস শুনে থানার ভিতর থেকে নাকি একটাই উত্তর এসেছে—
“এই প্রথম মনে হচ্ছে, আমাদেরও কেউ পাহারা দিচ্ছে।”
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি ব্যঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক। বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।